সাঁথিয়ায় বেড়েই চলছে ব্যবসায়ী অপহরণ,মুক্তিপণ নিয়ে মুক্তি

0
831
প্রতিকী ছবি

তারিকুল ইসলাম(পাবনা) থেকেঃ পাবনার সাঁথিয়া থানাধীন করমজা চতুরবাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলছে অপহরণ আতঙ্ক। জানা যায়, করমজা চতুরহাটের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা থেকে অপহরণ করা হয়। এরপর নির্যাতনের বরাত দিয়ে পরিবারের লোকজনের কাছে থেকে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা নিয়ে মুখ না খুলতে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এর মধ্যে গত ৩১ শে ডিসেম্বর ২০১৯ইং রাত আনুমানিক ১০:৩০ টার সময় মুদি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ হয় ব্যবসায়ী ভোজন । তাকে অপহরণ করে অপহরণকারীরা চোখ বেধে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরানোর পর পাবনার ঢালারচর নামক স্থানে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের মুখে পরিবারের লোকজনকে মুঠোফোনের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবী করেন অপহরণকারীরা। এরপর ০১ জানুয়ারী ২০২০ইং দুপুরের দিকে তাকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এমন ঘটনায় করমজা চতুরহাটের ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো গতকাল ১৮ ই জানুয়ারী ২০২০ইং রাত ৯টার দিকে মুদি দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে সাঁথিয়ার করমজা ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া খঢ়বাগানের সামনে থেকে অপহরণ করা হয় এক ব্যবসায়ীকে। স্বজনরা জানান, মুদি ব্যবসায়ী জিকরুল প্রতিদিনের মত সে দিনও বাসায় ফিরছিল । ইতিমধ্যে, কিছু অপহরণ চক্রের সদস্যরা তাকে পথরোধ করে চোখ বেধে তুলে নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখঁজির পর স্বজনদের মুঠোফোনের জিকরুলের ফোন থেকে ফোন দেয় অপহরণকারীরা। তাকে কেন আটকে রেখেছে জানতে চাইলে তাকে ছেড়ে দিতে দু-লক্ষ টাকা দাবী করা হয়। না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় তারা । পরে অপহরণকারীদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দফারফা শেষে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে মুক্তিপান ব্যবসায়ী জিকরুল। জিকরুলের ভাষ্যমতে, অপহরণকারীদের সদস্যরা বয়সে ২০-২৫ বছরের মত হবে। সংখ্যায় তারা ৮-১০ জনের টিম হয়ে কাজ করে। এবিষয়ে, করমজা চতুরহাটের বাসস্ট্যান্ড ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সেক্রেটারী জনাব মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তা NEWS52 কে বলেন, ইতিমধ্যে আমরা এটা আমলে নিয়েছি।কিছূদিন আগে এক ব্যবসায়ীর কাছে থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কয়েকজনকে আসামী করে সাঁথিয়া থানায় এস আই মামুনের অধীনে মামলা করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। অপহরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এটা আসলেই দুঃখজনক, তবে এ বিষয়ে প্রসাশনের উদাসীনতা আছে । ছিনতাইয়ের পথে নানা বাধা থাকায় তারা অপহরণের মত পথ বেছে নিয়েছে,প্রসাশনের দায়বদ্ধতা বাড়লেই এমন ঘটনা নিরসন হবে বলে মনে করেন তিনি। উল্লেখ্য, ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেড়া-সাঁথিয়ার সচেতন মহলের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও চতুরবাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে রয়েছে আতঙ্ক। এই অপহরণ আতঙ্ক থেকে রক্ষা পেয়ে স্বাধীনভাবে ব্যবসা যেন পরিচালনা করতে পারে সে জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন চতুরবাজারের সকল ব্যবসীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here