সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট

0
305

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা ৬০টি আবেদনের শুনানি শেষে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট জবাব চেয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। তবে এ আইনের স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করা হলে তাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আদালত। জানিয়েছে, আইনটি কেন স্থগিত করা হবে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ নিয়ে আগামী ২২শে জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত কয়েকদিন ধরেই
নতুন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে উত্তাল হয়ে আছে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য।
রাজপথে বিক্ষোভের পাশাপাশি নতুন এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে
৬০টি আবেদন পড়ে। বুধবার এসব মামলার শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে
ভেনুগোপালকে এই আইনের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে অডিও-ভিজ্যুয়াল মাধ্যম
ব্যবহারের পরামর্শ দেয় আদালত।

এদিকে দেশটির বেশ কয়েকটি রাজ্যে বড় ধরনের আন্দোলন চলছে এনআরসি ও সদ্য পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে।

উত্তপ্ত দিল্লিতে পুলিশে সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংঘাতে আহত হয়েছেন
অনেক। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে প্রতিরোধ সমাবেশ
হয়েছে। তবে সবকিছুর পরেও কোনোভাবে নতুন এ আইন বাস্তবায়ন থেকে বিজেপি পিছু
হটবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ১৪৪ ধারা
নাগরিকত্ব
সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ভারতের উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে ১৪৪ ধারা
জারি করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে বড় ধরনের সমাবেশ। বুধবার সকালে এই
নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬
জনকে। অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার জন্য দায়ের হয়েছে তিনটি মামলা। বেশ কয়েকজনের
বিরুদ্ধে ঘেরাও অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ।

অনলাইন জি নিউজ জানায়,
গত কয়েকদিন ধরে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে বেশ কয়েকটি
সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।
এতে অংশ নিয়েছেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ইউনিভার্সিটির কিছু সংখ্যক
শিক্ষার্থী। এই বিক্ষোভ, সংঘর্ষ সোমবার পর্যন্ত চলতে থাকে। একদিন পরেই এই
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে উত্তর-পূর্ব দিল্লির সিলামপুর এবং জাফরাবাদ এলাকায়।
সেখানে ক্ষুব্ধ প্রতিবাদী জনতা বেশ কিছু মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল ছোড়ে। ভাঙচুর করে বাস ও পুলিশ বুথ।
বুধবার এসব
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে
জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। ওদিকে দেশের বিভিন্ন অংশে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে
ওই আইনের বিরুদ্ধে। আইনটি নিয়ে প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দর সঙ্গে সাক্ষাৎ
করেছে বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। ওই
সাক্ষাতের পর বিএসপির এমপি সতীশ চন্দ্র মিশ্র বলেছেন, আমরা প্রেসিডেন্টকে
বলেছি নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ভুল এবং এটা অনুচ্ছেদ ১৪ ও ২১ এর প্রস্তাবনার
লঙ্ঘন। আমরা তাকে এই আইন বাতিল করার অনুরোধ করেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here