শীত ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন

0
292

চীফ রিপোর্টারঃ দেশের বিভিন্ন স্থানে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘনকুয়াশার কারণে বিমান, নৌ ও যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। দিনের বেলায় গাড়িগুলো হেডলাইন জ্বালিয়ে চলাচল করছে। আবহাওয়া অধিদফতর পূর্বাভাসে জানিয়েছে, এখন দেশের বেশিরভাগ এলাকায়  শৈত্যপ্রবাহ নেই। তবে যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও রাজশাহীর ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘনকুয়াশা পড়বে। রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা।

পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় সারাদেশে তাপমাত্রা বাড়বে। এদিকে রাজধানীও সকাল থেকে ঘন কুয়াশায় মোড়ানো রয়েছে। তবে শীত কিছুটা কমেছে।

শনিবার
সকালে রাজধানী ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.০ ডিগ্রি
সেলসিয়াস। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বত্র আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ
সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও কুয়াশা
পড়তে পারে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ
দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এবং এর বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ
বাংলাদেশের পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

শীতের জন্য রাস্তায়
মানুষের চলাচল কম দেখা গেছে। হঠাৎ করে শুরু হওয়া শুরু হওয়া শৈত্যপ্রবাহে
বিপর্যস্ত জনজীবন। শীতে সবেচেয় বেশি সমস্যা পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া
লোকজন। কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় কষ্ট পাচ্ছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।
কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না।
এ কারণে অফিস-আদালত, হাট-বাজার ও শহর এলাকায় মানুষের উপস্থিতি কমেছে।

যশোর:
তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন
তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। হিমেল
হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষ। শহরের পুরনো মার্কেটগুলোয় শীতের কাপড়
বিক্রি বেড়েছে। গত দু’দিন ধরে যশোরে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।

দিনাজপুর:
শীত নিবারণ করতে আগুন পোহাচ্ছেন লোকজনশীতে জবুথবু অবস্থা উত্তরের
জেলাগুলোয়। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায়
দিনাজপুরে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা উঠানামা করছে। তবে তাপমাত্রা
আরও কমতে পারে। শুক্রবার তাপমাত্রা ছিল ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

নওগাঁ:
শীতের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি ক্ষেত। কুয়ারশার কারণে নওগাঁও সারা দিন
কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে। সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। দিনের বেলাতেই
গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচলা করছে। দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকলেও
রাতে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কুয়াশা না থাকলেও
কনকনে শীতের তীব্রতায় একেবারেই নাজেহাল অবস্থা লোকজনের। আবহাওয়া উপকেন্দ্র
সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার নওগাঁর তাপমাত্রা ছিল ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বগুড়া:
তাপমাত্রা কমতে থাকায় বগুড়ায়ও শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এতে ছিন্নমূল
মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্টেশন, রোড ডিভাইডার, টার্মিনালসহ
বিভিন্ন খোলা স্থানে বসবাসকারীরা কষ্টে পাচ্ছেন। অনেকে আগুন জ্বালিয়ে শীত
নিবারণের চেষ্টা করছেন। বগুড়া আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার সর্বনিম্ন
তাপমাত্রা ছিল ১১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এছাড়া
কনকনে ঠান্ডা আর ঘনকুয়াশায় জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা
উপজেলার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ চরাঞ্চলের মানুষ
বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকে খড়খুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে।
এছাড়া ঘনকুয়াশার কারণে নদীপথে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। দিনের বেলায় কোনও
রকমে নৌ চলাচল করলেও সন্ধ্যার পর তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে জেলা শহরসহ বিভিন্ন
এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম বিপাকে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here