শীতে কাহিল গাইবান্ধার দরিদ্র পরিবারের জনজীবন

0
297

মোঃ রতন প্রামানিক (গাইবান্ধা)থেকেঃ কনকনে ঠাণ্ডা ও হিমেল হাওয়ায় গাইবান্ধায় শীতের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে গাইবান্ধার তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর ১৬৩টি চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের অবস্থা কাহিল। এদিকে ত্রাণ অফিস জানায়, শীতার্ত মানুষের জন্য ৩০ হাজার কম্বলের চাহিদা জানিয়ে জরুরি তারবার্তা পাঠানো হয়েছে।

কামারজানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান
আব্দুস সালাম বলেন, শীতের কারণে কষ্ট পাচ্ছে তার ইউনিয়নের অন্তত ৫৬ হাজার
মানুষ। এদের শীতবস্ত্র কেনার কোন ক্ষমতা নেই। প্রতিবছর শীতে কষ্টের সীমা
থাকে না। গত দুদিন ধরে শীতের তীব্রতার সাথে বেড়েছে ঘন কুয়াশা ও হিমেল
হাওয়া। এই এলাকার লোকজন দিনের বেলা ১২ টা পর্যন্ত ঘর থেকে বের হতে পাওে না ।

শীতের কারণে তারা জমিতে কাজ করতে পারছে না। দিনভর খড়কুটো
জালিয়ে শীত নিবারণ করে। রাতেও একই অবস্থা। শীতবস্ত্র না এক সাথে কাঁথা মুড়ি
দিয়ে শ’ শ’ পরিবারের লোকজন একটি ঘরের বিছানায় শুয়ে বসে রাত কাটায়। চর
কাবিলপুরের হাফিজার রহমান জানান, দিনের বেলা তাও থাকা যায়। কিন্তু রাত হলে
আর ঠাণ্ডায় থাকা যায় না। খালি গাওত হানে ।

চর কুন্দেরপাড়ার বছিরন
বেওয়া বলেন, শীতের কারণে বিছানার নিচে খড় দিয়ে তোষক তৈরি করেছেন। উপড়ে চটের
বস্তা আর ভেতরে খড় দিয়ে এই তোষক। এতে নিচে গরম হলেও একটা কাথা আর একটা
কম্বলে তার শীত যায় না। সে কারণে এলাকার সালাম চেয়ারম্যানের বাড়িতে
গিয়েছিলেন কম্বলের জন্য। চেয়ারম্যান বলছেন কম্বল আইলে পাবেন। বাধ্য হয়ে বড়
নাতি সাহিদকে নিয়ে এক সাথে এক বিছানায় কোকড়া হয়া শুয়ে থাকেন। কছিম উদ্দিন
থাকেন নদীর কাছেই। নতুন চর জাগছে তাতে ঢেড়া তুলে ১১টি পরিবার থাকেন। কারণ
তাদের নিজের কোন জমিজমা নেই। অন্যের জমিতে ভর বছর কাজ করেন। যেদিন কাজ থাকে
সেদিন কছিম উদ্দিনের মতো ১১টি দিন মজুর পরিবারের মুখে খাবার জোটে। গত
দুদিন ধরে কোন কাজে যেতে পারে না। কারণ দুদিন ধরে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি।
সূর্য্যের মুখ দেখা যায় না। রোদ ওঠে না। তার মধ্যে শিরশির বাতাস। ঘর থেকে
বের হওয়া কষ্টকর। ছেলে মেয়েদের নিয়ে বাড়ির মধ্যে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত
নিবারণের চেষ্টা করেন দুদিন ধরে।

কছিম উদ্দিন বলেন, শীত কমলে ঘরের
ছাগল বেচিয়া শীতের কাপড় কিনমো। আগামী শনিবার ফুলছড়ি হাটে নিয়ে বিক্রি করে
বাড়ির সকলের শীতের কাপড় কিনমো। রাতে ঘুমানোর জন্য যা আছে তাতে চলে যায়।
কম্বল, কাঁথা আর খড়ের বিছানায় গরম ভালোই হয়। খুব বেশি কষ্ট হয় না।

জরাজরি
করে এক সাথে থাকেন। তাই রাত কাটে ভালো। কিন্তু জমিতে কাজ করা কঠিন। একই
অবস্থা চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের। যারা ভালো আছেন তাদের কথা নেই। আর যারা
দিনমান কাজ করে পেট বাচায় তারা বিপাকে পড়েছেন শীতের কারণে। শীত কমলে কাজে
যায় আর শীত বাড়লে বসে থাকা।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম জাকির জানান, শীতে আর বন্যায় কষ্ট পায়
তার ইউনিয়নের মানুষ। সরকার থেকে এবার শীতার্ত মানৃষের মধ্যে বিতরণের জন্য
৬৩১টি কম্বল পেয়েছেন। তাই নিয়ে হৈচৈ। কাকে দেই আর কাকে বাদ রাখি এই
অবস্থা।  গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী জানান,
শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরনের জন্য জেলায় ৫১ হাজার ৮শ কম্বল দেয়া হয়েছে
ইতিমধ্যে। তাতে ইউনিয়ন প্রতি মাত্র ৬৩১ জন মানুষ এই কম্বল পেতে পারেন।
প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও আমরা কিছু করতে পারি না। তবে শীতের তীব্রতার
মধ্যে মানুষকে রক্ষা করতে জরুরিভাবে ৩০ হাজার কম্বলের চাহিদা জানিয়ে
তারবার্তা পাঠানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here