রাজাকারদের তালিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী-এটি খারাপ কাজ হয়েছে খুবই দুঃখজনক ও কষ্টের বিষয়

0
305

চীফ রিপোর্টারঃ রাজাকারদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আসা রহস্যজনক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যখন সারা দেশের মানুষ বিজয় উৎসব পালন করছেন তখন মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার এমন খবরে খুব কষ্ট পেয়েছেন, দুঃখ পেয়েছেন। তাদের আমি বলবো তারা যেন শান্ত থাকেন এবং ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। যারা যুদ্ধ করেছেন তাদের যদি রাজাকার শব্দটি শুনতে হয় তাহলে খারাপ লাগারই কথা। যারা মুক্তিযোদ্ধা তারা কোনোদিনও রাজাকারের তালিকায় থাকতে পারেন না। তিনি বলেন, তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গোলমাল করে ফেলেছে। এই তালিকাটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। এটি খুব খারাপ কাজ হয়েছে। খুবই দুঃখজনক এবং কষ্টের বিষয়।

গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী
বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে বলেছিলাম, তালিকাগুলো নিয়ে
ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করতে হবে। এত তাড়াতাড়ি এটি প্রকাশ করার কথা না। তাও
বিজয় দিবসের আগে। এত সুন্দর বিজয় দিবস উদযাপন করলাম, কিন্তু শহীদ পরিবার,
মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এতে কষ্ট পেয়েছেন। তালিকাটি সময় নিয়ে প্রকাশ করা দরকার
ছিল। আসলে আমিও ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম সবদিক সময়মতো খেয়াল রাখতে পারিনি।

তিনি
বলেন, রাজাকারদের তালিকা করতে গিয়ে, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যাদের বিরুদ্ধে
মামলা হয়েছিল তাদের নামের তালিকাও ঢুকে পড়েছে। ১৯৭১ সালে যারা
মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল, আমাদের আওয়ামী লীগের যারা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলো
তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিতে তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার মামলা
দায়ের করে। পরে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলে সেই তালিকা ধরে ধরে বিভিন্ন সময়
আমাদের আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের শাস্তি দিতো। এটা এরশাদের সময়ও করা 
হয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের মনে আছে কিনা জানি না, একবার এক তালিকা বের হলো
যে কিশোরগঞ্জের এক নম্বর সন্ত্রাসী জিল্লুর রহমান আর দুই নাম্বার আবদুল
হামিদ সাব। পরে এটা শুনে খোঁজ নিয়ে দেখলাম ওই যে পাকিস্তান আমলের যে তালিকা
সেখানে তাদের নাম রয়ে গেছে। সেই তালিকা থেকে রাজাকারের নাম নিতে গিয়ে সব
মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই  গোলমালটি করে ফেলেছে। যারা
মুক্তিযোদ্ধা তাদের নাম দেয়া হয়েছে। সেটি কীভাবে ওই তালিকায় চলে গেল এটি
একটি রহস্যও বটে। রাজাকারদের তালিকা তার তো গেজেট করা আছে। আলবদর, আলশামস
এদের গেজেট করা আছে। আমরা যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল করলাম ওই
গেজেট থেকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কাজেই যে তালিকা প্রকাশ
করা হয়েছে তা কোনোমতেই রাজাকারের তালিকা নয়। যাদের ওই সময়ে জন্ম হয়নি এমন
অনেকেরই নামও তালিকায় ঢুকে গেছে। এটি খুবই খারাপ একটি কাজ হয়ে গেছে যে
এখানে অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম ঢুকে গেছে। সেই পাকিস্তান আমলের করা তালিকা
আর এই তালিকার মধ্যে একটা গোলমাল হয়েছে। আমি এরই মধ্যে নির্দেশ দিয়েছি যে
তালিকাটি ভালো করে যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করেতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও
এ বিষয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর এই তালিকাটি জিয়াউর রহমান
এরশাদ এমনকি খালেদা জিয়াও ব্যবহার  করেছে। আমি বলেছিলাম যে এগুলো বের করে
দেখে প্রকাশ করতে। কিন্তু তা হয়নি। পাকিস্তানীরা যে তালিকা করেছে সেটা যদি
এরশাদ, জিয়া, খালেদা জিয়া ব্যবহার না করতো তবে এ গোলমালটা হতো না। আমি
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীকে বলেছিলাম যে এটা এতো তাড়াহুরো করে দেয়ার দরকার
নেই। ভালো করে দেখে শুনে দিতে হবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
ভালো করে যাচাই না করেই তাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দিয়েছে। আমি যেহেতু সরকার
প্রধান আমার এখানে দায়িত্ব আছে। আমি শক্ত করেই বলেছিলাম তাকে। কিন্তু তিনি
কেন এটা করলেন আমি জানি না। যাই হোক আমি একটি কথা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই।
কোন মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় যেতে পারে না, এটা কোন দিনও
সম্ভব নয়, এটা অসম্ভব, আমরা কোন দিনও এটা হতে দেব না।

শেখ হাসিনা
বলেন, একটি দেশের বড় বিপ্লবের পর এ ধরনের অনেক বিবর্তন ঘটতে পারে। তবে
জাতির পিতা যদি ধারাবাহিকভাবে দেশ চালাতে পারতেন, যদি আমাদের দেশে ১৫ই
আগস্টের মতো ঘটনা না ঘটতো তাহলে এমনটা হতো না। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের
জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমতায় আনলো, যুদ্ধাপরাদীদের
মন্ত্রী বানালো তখন তারা জায়গা পেয়ে গেলো। তখন তারাই সামনে চলে আসলো।

সরকারের
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভালো কাজ করলে সবার
সহযোগিতা পাওয়া যায়। সবার সহযোগিতায় উন্নয়নের চাকা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
যার ফলাফল জনগণ পাচ্ছে। আমরা যে উন্নয়ন করেছিলাম ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায়
এসে নষ্ট করে দিয়েছিল। ২০০৯ সালে আমরা ক্ষমতায় এসে আবার উন্নয়নগুলো নতুন
করে শুরু করলাম। কাজেই বাংলাদেশের যে উন্নয়ন শুরু হয়েছে তার অগ্রযাত্রা কেউ
থামিয়ে রাখতে পারবে না। সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ অভীষ্ট
লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। আমরা দারিদ্রের হার ১৬/১৭ তে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবো।
আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। উন্নয়নশীল দেশের ধারাবাহিকতা
অক্ষুণ্ন রাখার জন্য যে তিনটি ক্রাইটেরিয়া দরকার তা আমরা এরইমধ্যে অর্জন
করে দেখিয়েছি। ক্রাইটেরিয়াগুলো আমরা সামনে আর অর্জন না করলেও উন্নয়নশীল দেশ
হিসেবে আমরা তালিকায় থাকব। তারপরও আমরা আমাদের লক্ষ্যগুলো পূরণ করতে চাই।

বৈঠকে
আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। দলের
গঠনতন্ত্রের সংশোধনীর খসড়াও অনুমোদন দেয়া হয় বৈঠকে। আগামী ২০ এবং ২১শে
ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সম্মেলন সামনে রেখে বিদায়ী কার্যনির্বাহী সংসদের
গতকালই শেষ বৈঠক ছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here