ভারতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩, উত্তর প্রদেশে বেশি

0
295

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ভারতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩। এই আইনটিকে মুসলিম বিরোধী বলে দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ভারতে যে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান আছে, এই আইনটি তার লঙ্ঘন। এর প্রতিবাদে সেখানে রাস্তায় নেমেছেন হিন্দু, মুসলিম সহ বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের মানুষ। সেই বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে নিহতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আল জাজিরা এ খবর দিয়ে বলছে, শনিবার উত্তরাঞ্চলীয় উত্তর প্রদেশে নিহত হয়েছেন ৯ জন। পুলিশের মুখপাত্র প্রবীন কুমার বলেছেন, এ নিয়ে সেখানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫।

ফলে পুরো ভারতে এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩।
নিহতদের বেশির ভাগই যুবক। প্রবীন কুমার বলেন, বেশির ভাগই বুলেটে আহত হয়ে
মারা গেছেন। তবে পুলিশের গুলিতে এসব মানুষ আহত হন নি। উত্তেজিত
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শুধুই কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। তিনি আরো
বলেন, রাজ্যের রামপুর, সম্বল, মুজাফফরনগর, বিজনোর এবং কানপুরে কয়েক ডজন
গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। একটি পুলিশ স্টেশনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য হলো উত্তর প্রদেশ। এখানে বসবাস ২০ কোটি ৪০ লাখ
মানুষের। এই রাজ্যটি শাসন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা
পার্টি (বিজেপি)। ওই রাজ্যে সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। ৪৮
ঘন্টা সেখানে বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট সুবিধা। এর আগে শুক্রবারি ৮ বছরের
একটি শিশু সহ ৬ জন নিহত হন। মুসলিমদের বিশাল একটি অংশ এদিন ওই রাজ্যে
বিক্ষোভ বের করেন। শনিবার পুলিশ বলেছে, কমপক্ষে ৬০০ জনকে আটক করে নিরাপত্তা
হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এর বাইরে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর লেখা পোস্ট দেয়ার জন্য পুলিশ ১৩টি মামলা
করেছে।
বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমলের আইনের অধীনে ১৪৪ ধারা জারি করেছে পুলিশ।
এ আইনের অধীনে রাজ্যের কোথাও চার জনের বেশি মানুষকে একত্রিত হতে
নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ওদিকে শুক্রবার রাতে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক
মন্ত্রণালয় থেকে সহিংসতার খবর প্রচারের ক্ষেত্রে কড়া নীতি মেনে চলতে বলা
হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থী, নারী সহ
হাজার হাজার মানুষ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য,
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, পারসি, জৈন ও
খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেয়ার জন্য এই আইন করা হয়েছে। বাদ রাখা হয়েছে শুধু
মুসলিমদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here