বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কিছু করে না

0
254

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
‘আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি-নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারে নাই’ ওয়ার্কার্স
পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার (মেনন) জয়ও
প্রশ্নবিদ্ধ হয়। গতকাল গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জোটের নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, তার মনে তো কষ্ট
থাকতেই পারে। তিনি জেনে হোক, না জেনে হোক এক ক্লাবের চেয়ারম্যান করা হয়েছে
এলাকার এমপি হিসেবে। স্বাভাবিকভাবেই কিছু তথ্য এসেছে। যখন কিছু তথ্য এসেছে,
তিনি কিছু কথা বলেছেন। কিন্তু, এটাও ভাবতে হবে তিনি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন
তুললে, তার জয়ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে জোটের মুখপাত্র নাসিম সাহেব
আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। জানতে চেয়েছেন, আমার বক্তব্য আছে কিনা।

আমি বলেছি, এ বিষয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। কে কি কথা বললো এসব বিষয় নিয়েই যদি পড়ে থাকি তাহলে দেশের উন্নয়নে কাজ করবো কখন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাকে তো আমি বহুদিন থেকেই চিনি। আমরা একসাথেই রাজনীতি করেছি। ‘৭০ সালে যখন নির্বাচন দেয়া হলো তখন তিনি স্লোগান দিলেন, ভোটের বাক্সে লাথি মারো বাংলাদেশ স্বাধীন করো। কিন্তু, তখন ভোট না হলে তো বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। ’৭২ সালে যখন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি হলো তখন বলেছিলেন, বেরুবাড়ি বেচে দিলো, বেরুবাড়ি বেচে দিলো। কিন্তু, পরবর্তীতে সবাই দেখেছেন বেরুবাড়ি বেচে দেয়া হয়নি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কিছু করে না। বেরুবাড়িতে ভারত ভারতের অংশ পেয়েছে, আমরা আমাদের অংশ পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৪ দল বসেছে, তিনি দুঃখ
প্রকাশ করেছেন। কাজেই সেটা তিনি তখন বুঝে বলেছেন, নাকি না বুঝে বলেছেন সেটা
আমি জানি না। এমন বক্তব্য তিনি হয়তো আরও দেবেন, এতে আমার কোনও মন্তব্য
নেই। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মজা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি বলে তো ভালো
করেছে। সাংবাদিকরা লেখার খোরাক পেয়েছেন। না বললে কী লিখতেন। শেখ হাসিনা
এসময় আরও বলেন, জনগণ যদি ভোট না দিত, আমাদের পক্ষে না থাকতো, তাহলে আমাদের
সমর্থন থাকতো না। তাদের (বিএনপি) ভোটবিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে আমরা
গণআন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছিলাম। আমাদের জনসমর্থন ছিল। এদেশের সব ব্যবসায়ী
সমপ্রদায়, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি সব সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকে
যেভাবে আমাদের সমর্থন দিয়েছে, এটা বাংলাদেশের জন্য একটা অভূতপূর্ণ ঘটনা।
শুধু আওয়ামী লীগের না, বিএনপির ব্যবসায়ীরাও আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। কারণ
আমরা সবার জন্য কাজ করার সুযোগ করে দিতে পেরেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here