প্রথমে হত্যা এরপর আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয় লাশ

0
439

সবুজ হোসাইনঃ শুধু বন্ধুই নয়, মাদক সেবন থেকে শুরু করে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল আলিফ ও ইমরান নামে দুই বন্ধু। এরই জের ধরে শেষ পর্যন্ত এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে হত্যা করলো। হত্যা করেই শেষ নয়, লাশ যাতে চেনা না যায় সেজন্য কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এমন এক নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চর গোলড়া গ্রামে। খুনের রহস্য উন্মোচন করতে মাঠে নামে পুলিশ। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনার ১০ দিনের মাথায় গেল শুক্রবার হত্যাকারী বন্ধু ইমরান হোসেন (২১)কে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর শনিবার আসামি ইমরান হোসেনকে মানিকগঞ্জে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেয়। সে সিংগাইর উপজেলার চর গোলড়া গ্রামের জামাল মোল্লার ছেলে। আর হত্যাকাণ্ডের শিকার আলিফ (২০) সদর উপজেলার লেমুবাড়ি গ্রামের আবদুল আলিমের ছেলে।  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি সকালে জেলার সিংগাইর উপজেলার চর গোলড়া গ্রামে একটি ক্ষেতের মধ্যে আগুনে পোড়া এক তরুণের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তবে সম্পূর্ণ পুড়ে
যাওয়া লাশের পরিচয় প্রাথমিক অবস্থায় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে
অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর ঘটনাটি গুরুত্ব
দিয়ে তদন্ত করতে থাকে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার
উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের ১০ দিনের মধ্যে গত
শুক্রবার সকালে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকার সূত্রাপুর থেকে এই
হত্যাকাণ্ডের একমাত্র আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত শনিবার তাকে
জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আদালতের
বিচারক শাকিল আহম্মেদের কাছে আসামি ইমরান ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক
জবানবন্দিতে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
এসআই আনোয়ার হোসেন আরো জানান,
বাবা-মা ঢাকায় থাকায় আলিফ সিংগাইরের রাজেন্দ্রপুর গ্রামে দাদির কাছে থাকতো।
ছোটবেলা থেকে আলিফ ও ইমরান একসঙ্গে চলাফেরা করতো। পরবর্তীতে তারা ইয়াবায়
আসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকসেবনের টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
কয়েক মাস আগে আলিফ ঢাকার মিরপুরে থাকাবস্থায় ইমরানকে সেখানে ফোন করে ডেকে
নিয়ে যায়। সেখানে ইয়াবা সেবন নিয়ে ইমরানকে মারধর করা হয়। এ নিয়ে আলিফের
সঙ্গে ইমরানের দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর এলাকায় আসলে আলিফ অন্য বন্ধুদের সঙ্গে
চলাফেরা ও ইয়াবা সেবন করতো। এ নিয়ে আলিফের প্রতি ইমরানের ক্ষোভ আরো বেড়ে
যায়। এসব বিষয় নিয়ে আলিফকে হত্যার পরিকল্পনা করে ইমরান।
আদালতে
জবানবন্দিতে ইমরান জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়
মুঠোফোনে কল করে স্বণের্র দোকানে চুরি করার জন্য আলিফকে বাড়িতে ডেকে নেয় 
সে। তারা একসঙ্গে রাতের খাবারও খায়। রাত ১২টার দিকে পাশের চর গোলড়া গ্রামে
আলিফকে নিয়ে যায় ইমরান। এর পর ইমরান প্যান্টের কাপড়ের বেল্ট দিয়ে আলিফকে
গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। পরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলের পাশে রাখা
কেরোসিন ঢেলে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here