‘প্রতিবেশীদের ফাঁসাতেই জয়নবকে ধর্ষণের পর হত্যা করে কানাই’

0
292

জেলা প্রতিনিধিঃ প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে শিক্ষার্থী জয়নব বেগমকে (১০) ধর্ষণের পর হত্যা করে চা দোকানি মোবারক মিয়া ওরফে কানাই (৪৫)। গত বৃহস্পতিবার রাতে বড়ুইবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এসব তথ্য জানায় কানাই। কানাই পশ্চিম কুট্টাপাড়ার নিবু মিয়ার ছেলে। জয়নব ও কানাই প্রতিবেশী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে পাশের বাড়িতে একটি রেঞ্জ দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জয়নব। পরের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিবস্ত্র অবস্থায় শিশুটির লাশ বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই গাঢাকা দেয় কানাই। ঘটনার তিনদিন পর গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কানাই লুকিয়ে বাড়িতে আসে।

খবর পেয়ে পুলিশ কুট্টাপাড়া গ্রামে অভিযানে নামে। পুলিশের
উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সটকে পড়ে কানাই। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে পানিশ্বর
ইউনিয়নের বড়ুইবাড়ি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সুপারের
কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেড়িয়ে আসে নানা তথ্য। এ সময় কানাই ঘটনার
সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং এ ঘটনা সে একাই ঘটিয়েছে বলে জানায়।
কানাই জানায়, জায়গা নিয়ে ঝামেলার জন্যই এই ন্যক্কারজনক কাজ করে সে। ‘জয়নব ও
আমার বাড়ি পাশাপাশি। বাড়ির পাশেই আমার টং দোকান। জয়নব আমাকে দাদা বলে
ডাকতো।

আমিও তাকে আদর করতাম। মাঝে মধ্যে জয়নবকে চললেট দিতাম। জয়নবও
চকলেটের জন্য মাঝে-মধ্যে দোকানে আসতো। গত সোমবার রাতে হঠাৎ করে দেখি জয়নব
আমার ঘরের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে। তাকে একটি চকলেট দেখিয়ে ঘরে আসতে বলি। সে
আসতে চায় না। আমি জয়নবের হাত ধরে টান দিয়ে আমার নির্জন ঘরে আনি। চকলেট
খেতে দেই। পরে তার শরীরে হাত দিয়ে আদর করতে চাইলে চিৎকার করার চেষ্টা করে।
আমি তাকে ধরে জোর করে খাটের উপর শোয়ানোর চেষ্টা করি। এতে ধস্তাধস্তির কারণে
খাটে লেগে জয়নবের কপালের বাম পাশে আঘাত পায়। মুখে চাপ দিয়ে ধরে আমার মনের
খায়েস পূরণ করি। সে বড় গোষ্ঠীর মেয়ে। ঘটনা সবাইকে জানিয়ে দিবে। আমার কোন
অস্তিত্ব থাকবে না। সবাই মিলে আমাকে শেষ করে দিবে। তাই গলায় ও মুখে চাপ
দিয়ে ধরি। কিছুক্ষণ পরে জয়নব মারা যায়। জয়নবের লাশটি তখন আমার খাটের উপর।
অপেক্ষা করতে থাকি। রাত গভীর হয়। বাড়ির ওঠানে রাস্তা ঘাটে লোকজন নেই।
জয়নবের লাশটা কাঁধে নিয়ে রওনা দেই। বাড়ি থেকে বেশ কিছু দূরে বাঁশের ঝোপের
ভিতরে লাশটি ফেলে আসি। রাতে আমার টং দোকানেই ঘুমিয়ে পড়ি। পরের দিন সবাই
জয়নবকে খুঁজতেছে। মাইকিং হচ্ছে। আমি তো সবই দেখতেছি।’  আদালতে ১৬৪ ধারায়
এসব জবানবন্দি গ্রহণ শেষে ঘাতক কানাইকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

 নিহত
শিশুর পিতা হাফিজ মিয়া ও মা ফেরদৌসী বেগম বলেন, আমাদের তো সবই শেষ। আমরা
এখন লম্পট ঘাতক কানাইয়ের ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দেখে মরতে চাই। সরাইল
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহাদাত হোসেন টিটো বলেন, নিঃসন্দেহে
অমানবিক ও বর্বর কান্ড। শিশুটির মা-বাবাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার নেই।
তবে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here