নোয়াখালীর সেনবাগের কিশোরী ধর্ষণের মূলহোতা বন্দুকযুদ্ধে নিহত

0
152

নোয়াখালীর সেনবাগের ছাতারপাইয়ার সোনাকান্দিতে পুলিশের সাথে  বন্দুকযুদ্ধে মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক ধর্ষণকারী  নিহত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা ৫ আসামির মধ্যে ৪ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার ১৩ই জুন রাত ৯ টার দিকে সোনাইমুড়ীর মা মনি বেকারীর  শ্রমিক কিশোরী (১৪) কে কবিরহাটের বাড়ীতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে সিএনজি স্ট্যান্ডের লাইনম্যান মিজান (৪০) ছাতারপাইয়ার মাদকসম্রাট    কানা শহীদের আস্তানায় নিয়ে আসে।   কানাশহীদের ভাঙ্গাড়ি দোকানের পিছনে  জোর করে  সারারাত কিশোরীকে মিজান ও কানাশহীদ পাশবিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনে  ভিকটিম  রক্তাক্ত জখম হলে সকাল ১০ টার দিকে কানাশহীদ ও মিজান কিশোরীকে ছাতারপাইয়া ইউপির তেমুহনী হয়ে পালিয়ে যাবার সময় কিশোরী চিৎকার দিলে স্হানীয় লোকজন এগিয়ে এসে  তাদেরকে আটক করেন। এ সময় স্হানীয় এয়াছিন লিটন ও ওসমান গনি নামের দুই যুবক ভিকটিম সহ দুইধর্ষণকারীকে আটক করে চাঁদাদাবী করতে থাকে। রোববার বিকেলে থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেমুহনীতে অভিযান চালিয়ে ভিকটিম কে উদ্ধার ২ ধর্ষণকারী ও ২ চাঁঁদাবাজকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন। ধর্ষণে মূলহোতার স্বীকারোক্তি মোতাবেক  সোমবার রাত সোয়া দুইটার  দিকে থানার সদ্যযোগদানকৃত ওসি( তদন্ত) ইকবাল হোসেন ও এসআই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশের একটি টিম মিজানকে  নিয়ে সহযোগীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে কানকিরহাট – ছাতাপাইয়া প্রধান সড়কের সোনাকান্দিগ্রামে এলে  মিজানের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে মিজানকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ ১২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে।

এতে মিজান গুলিবিদ্ধ সহ  রসুল,পিয়াস ও পিপল নামে  তিন পুলিশ কনস্টবল ও আহত হয়। তাদেরকে সেনবাগ সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সাথে  মিজানকে   পুলিশ উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি এলজি, ২ রাউন্ড এলজির গুলি ও একটি ছোরা উদ্ধার করেছেন ।
নিহত মিজানের বাড়ি পার্শ্ববর্তী সোনাইমুড়ী উপজেলার নাওতলা গ্রামের আলা উদ্দিনের পুত্র । সে সোনাইমুড়ী সিএনজি স্ট্যান্ডের লাইনম্যান হিসেবে নানা অপরাধে জড়িত ছিলো।তার বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় চাঁদাবাজি ও মাদক আইনের ২ মামলা রয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে  কানা শহীদের নামে থানায় ৫টি মামলা রয়েছে।
ধর্ষিতা কিশোরী কবিরহাট উপজেলার  নলুয়া মালেক মাঝি বাড়ীর নুর আলমের কন্যা ও  নারী ও শিশু নির্যাতন  মামলার বাদী।

সেনবাগ থানার  ওসি আবদুল বাতেন মৃধা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মানবজমিনকে জানান, লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণে জড়িত ‘জে, আদ্যাক্ষরের এক আসামীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে সেনবাগে আলোচিত  উত্তর মানিকপুরে ১০ নরপশু কবরস্থানে নিয়ে  প্রতিবন্ধীকে গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here