ঢাকা সিটি নির্বাচন- ফিঙ্গার প্রিন্ট বিড়ম্বনা

0
292

বিশেষ প্রতিনিধিঃ কামরাঙ্গীরচরের ভোটার রহিমা বেগম। বহু কষ্টে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে ভোট দিতে এসেছেন। নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভোটার চিহ্নিত করার জন্য আঙুলে ছাপ দিচ্ছেন, কিন্তু মিলছে না। এভাবে কয়েকবার চেষ্টার পরেও মিলছে না তার আঙুলের ছাপ। নির্বাচনী কর্মকর্তা ব্যর্থ হয়ে তাকে ফিরে যেতে বলেন। পথিমধ্যে এক সাংবাদিকের কাছে রহিমা অভিযোগ করে বলেন, আমার নিজের বাড়ি কামরাঙ্গীরচর। স্বামীর বাড়ি কেরানীগঞ্জ। শুধু মাত্র ভোট দেয়ার জন্য বহু কষ্টে নদী পার হয়ে ভোট দিতে এসেও দিতে পারলাম না।

আমি ভোট দিতে চাই। ওই ভোটারকে নিয়ে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের
ওয়াজদ্দিন স্কুলের সংশ্লিষ্ট বুথে কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,
ভাই আমরা বহু চেষ্টা করছি। উনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলছে না। উনাকে একটু পরে
আসতে বলেছি। সঙ্গে ভোটার আইডি নিয়ে আসার জন্য বলেছি। উনার কোনো আঙ্গুলেই
কাজ হচ্ছে না। তারপরও আবার চেষ্টা করছি। দুবার চেষ্টা করার পর ব্যার্থ হয়ে
এক নির্বাচনী কর্মকর্তার আঙ্গুল ব্যবহার করে ভোট দেন রহিমা। রহিমার মতো আরো
অনেককেই ইভিএমে ভোট দিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। খোদ প্রধান নির্বাচন
কমিশনার কে এম নূরুল হুদাকে এ বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। একইভাবে আঙ্গুলের ছাপ না
মেলায় বেশ বিড়ম্বনায় পড়েন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।
পরে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সহায়তায় ভোট দেন তিনি।

সকালে
উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে যান সিইসি কে এম নূরুল
হুদা। দুবার যাচাই করেও আঙ্গুলের ছাপ না মেলায় ভোটার নম্বর ব্যবহার  করে
তাকে ভোট দিতে হয়। এসময় সিইসিকে নিজের স্মার্ট কার্ডও বের করতে দেখা যায়। এ
বিষয়ে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবু তালেব বলেন, ইভিএমে ভোট দেয়ার
আগে আঙ্গুলের ছাপ মেলাতে হয়। সিইসি আঙ্গুলের ছাপ দু-তিন বার ট্রাই করেন।
পরে ভোটার শণাক্তকরণ করে ইভিএম ভোট দেন। একইভাবে রাজধানীর বেইলি রোডের
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে ড. কামাল
হোসেনকেও বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। কয়েকবার চেষ্টার পরেও আঙ্গুলের ছাপ মিলেনি
তার। প্রতিবার আঙ্গুলের ছাপ দেয়ার পর মেশিনের স্ক্রিনে লাল রঙ ভাসছিল।
কোনোভাবেই কামালের আঙ্গুল ইভিএম মেশিন শনাক্ত করতে না  পেরে সহকারী
প্রিজাইডিং কর্মকর্তার পিন নম্বর ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে ভোট দেন ড.
কামাল । সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কাউসার-ই-জাহান জানান, কারো আঙ্গুলেল
ছাপ না মিললে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এরকম এক শতাংশ ভোটারের ভোট দেয়ার
ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। উনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মেলায় আমার পিন নম্বর
এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করি। পরে কম্পিউটারের মনিটরে উনার যাবতীয় তথ্য
ভেসে উঠে, সেটা সবাই দেখেছেন। এজেন্টরা উনাকে শনাক্ত করার পর তার ভোট দেয়ার
ব্যবস্থা করা হয়। ইভিএমে আঙ্গুলের ছাপ না মেলা প্রসঙ্গে সিইসি বলেন,
এক্ষেত্রে ৩-৪টি উপায় রয়েছে। আইডি কার্ড দেখতে পারে, পুরনো কার্ড দেখতে
পারে। নম্বর মেলালে ছবি আসবে, ভোট দিতে পারবে। সকালে গুলশানের মানারাত ঢাকা
ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিতে এসে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী
তাবিথ আউয়ালের মা নাসরিন আউয়ালকে আধা ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ
কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ফারজানা শারমিন বলেন, প্যানেলে কানেকশন
লুজ ছিল, দু-তিন দফায় চেষ্টা করেছি। পরে আমরা প্যানেল চেঞ্জ করে দিয়েছি।
নাসরিন আউয়াল পরে ভোট দিয়েছেন। বনানী বিদ্যানিকেতন কেন্দ্রের প্রিজাইডিং
অফিসার জয়নাল আবেদিন বলেন, সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণের পর একটি বুথে প্রবলেম
দেখা দিয়েছিল। ব্যালট প্যানেলের সাথে কন্ট্রোল প্যানেলের সংযোগ পাচ্ছিল না।
দুটা ভোট দেয়ার পরে ব্যালট প্যানেল ডিসকানেক্ট দেখাচ্ছিল। তবে পাঁচ
মিনিটের মধ্যে সমস্যা সমাধান করে ফেলেছি। এদিকে রাজধানীর সব কেন্দ্রেই
ভোটারদের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে দেখা যায়। অনেকে ভোট না দিয়েই
চলে যান। আবার কেউ কেউ চেষ্টা করে কর্মকর্তাদের আঙ্গুলের ছাপে ভোট দেন। ভোট
না দিতে পারা ভোটারদের অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here