এবার গণধর্ষণের শিকার অটো রিকশার দুই যাত্রী

0
261

স্টাফ রিপের্টারঃ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সিএনজি চালিত অটো রিকশার যাত্রী দুই গৃহবধু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অটো চালক ও তার সহযোগিসহ ৯ জন মিলে তাদের উপর এ পাশবিক নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ওই দুই গৃহবধূ। এ ঘটনায় রাতেই অভিযান চালিয়ে দু’টি অটো রিকশাসহ জড়িত ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আটককৃতদের নাম-পরিচয় জানায়নি।

পুলিশ
ও ভিক্টিম সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিতা দুই নারী পরস্পরের পূর্ব পরিচিত। এক
সন্তানের জননী গৃহবধূ মৌলভীবাজার-কমলগঞ্জ সড়কের শিমুলতলার বাসিন্দা। তার
স্বামী একটি মামলায় বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। আরেক গৃহবধু দুই সন্তানের
জননী থাকেন কমলগঞ্জের শমশেরনগর ভাড়া বাসায়। তার স্বামী টমটম চালক।

তাদের একে অপরের সঙ্গে পথে দেখা হয়। পরে দু’জন একটি সিএনজি
চালিত চার ভাই পরিবহন নামের অটো রিকশা (মৌলভীবাজার-থ-১১-৮৫০৭) যোগে
শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের বাড়ি উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। একপর্যায় চালক মূল সড়কে
না গিয়ে মৌলভীবাজার-কমলগঞ্জ সড়কের কালেঙ্গা পথে নিয়ে যায়। এ সময় চালক
রাস্তায় আরও দুজন যাত্রী উঠায়। দেওড়াছড়া বাগানের কাছে পৌঁছালে আরও একটি
সিএনজি তাদের পিছু নেয়। এক পর্যায় চা বাগানের পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছামাত্র
৮-৯ জন মিলে তাদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। এই সময় তারা একজন চালকের নাম
শুনতে পান ইউছুফ। পরে তাদের চিৎকারে পথচারিসহ আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে
দুবৃত্তরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় এক ইউপি মেম্বার ও এলাকার লোকজন তাদের
উদ্ধার করে রাতে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে কথা হয়
এক সন্তানের জননী গৃহবধূর মায়ের সঙ্গে। তিনি জানান, রাতে বাড়ি ফিরে মেয়েকে
না পেয়ে খবর নিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি এই ঘটনার বিচার চান।
মৌলভীবাজার
২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বিষয়টি
নিশ্চিত করে জানান, নির্যাতনের শিকার দুই গৃহবধূকে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টা
১০ মিনিটে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষা
শেষে বর্তমানে চিকিৎসা চলছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনার সঙ্গে
জড়িত ৭জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় চার ভাই পরিবহন নামের দু’টি অটো রিকশা
(মৌলভীবাজার-থ-১১-৮৫০৭-মৌলভীবাজার-থ-১২-৭৬১০) জব্দ করে পুলিশ। কমলগঞ্জ
থানার ওসি আরিফুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here